পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধের পর দেশটির পার্লামেন্ট তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছর পর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোটাভুটির মাধ্যমে ৪০ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। খবর রয়টার্সের।

ইউক্রেনের সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই ইউলিয়া স্ভিরিদেনকোর পদত্যাগকে দেখা হচ্ছে। পার্লামেন্টে পদত্যাগ অনুমোদনের পর বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, গত এক বছর ছিল কঠিন সিদ্ধান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে ভরা। তার প্রতি রাখা আস্থা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্ভিরিদেনকো বলেন, তিনি সবসময় কাজের ফলাফলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে দায়িত্ব পালনকালে সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার কয়েক মাস পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে স্ভিরিদেনকোকে মন্ত্রিসভার নেতৃত্বে আনা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সমালোচকদের একটি অংশ অভিযোগ করে আসছিল, সরকার ও প্রশাসনের দুর্নীতি দমনে তিনি যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক কৌশলের দিকে এগোচ্ছে এবং এ জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। তবে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

স্ভিরিদেনকোর বিদায় নিয়ে বিরোধী দল হলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকার প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে প্রতিদিন নতুন নতুন উপস্থাপনা ও সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি দুর্নীতির মামলায় নতুন সন্দেহভাজনের নাম সামনে এসেছে।

ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সঙ্গে পুরো মন্ত্রিসভাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে গেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফটোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কির নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরোভের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেন বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিকস স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে ইউক্রেন।

যুদ্ধকালীন সময়ে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়ন, যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা এবং রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনও প্রধান দায়িত্বের অংশ।

বিদায়ের আগে স্ভিরিদেনকো নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আসন্ন শীতের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, শীত মৌসুম ঘনিয়ে এলে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ও গ্যাস লাইনে রাশিয়ার হামলার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই নতুন সরকারকে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

এএন