পাকিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ হামলা, সেনা-পুলিশসহ নিহত ২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম
পাকিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ হামলা, সেনা-পুলিশসহ নিহত ২৭

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলায় সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা এবং হামলাকারী মিলিয়ে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তথ্যের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ট্যাংক জেলার একটি নিরাপত্তা চৌকিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরেই আফগান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা রয়েছে।

সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনাসদস্য, দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বন বিভাগের কর্মকর্তা। পাল্টা অভিযানে আরও ১২ জন হামলাকারী নিহত হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে বলা হয়, প্রথমে সশস্ত্র হামলাকারীরা নিরাপত্তা চৌকিতে ঢোকার চেষ্টা করে। পরে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি চৌকির সীমানাপ্রাচীরে আঘাত করলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, অভিযানে চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী অংশ নিয়েছিল।

হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে বান্নু জেলাতেও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের তথ্যও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) জানিয়েছে, পাকিস্তানে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৬২০ জন থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ২ হাজার ৩৩১ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস) বলছে, একই সময়ে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এএন