দুই শিশু অপহরণকারী রিমান্ডে, অপরজন কারাগারে

আদালত প্রতিবেদক প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৩, ০৯:০৭ পিএম
দুই শিশু অপহরণকারী রিমান্ডে, অপরজন কারাগারে

গাজীপুরের সালনা থেকে গ্রেফতার শিশু অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা হলেন- মোঃ মিল্টন মাসুদ ও মো. শাহীনুর রহমান। একইসাথে চক্রের অপর সদস্য সুফিয়া বেগমকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয়া হয়েছে।

শনিবার (৬ মে) শিশু পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এর মধ্যে মিল্টন ও শাহীনের দশদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সমিত মজুমদার এবং অপর আসামি সুফিয়া বেগমকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। অন্যদিকে আসামিদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুইজনের তিনদিনের রিমান্ড ও অপর আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ মে) গাজীপুরের সালনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগ। এসময় তাদের হেফাজত থেকে অপহরণে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন ও ৫টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়। চক্রটি ৬-৭ বছর ধরে স্কুলশিশুদের অপহরণ করে আসছে। এ পর্যন্ত ৫০০-৬০০ শিশুকে অপহরণ করে তাদের পিতা-মাতার কাছ থেকে অর্থও আদায় করেছে তারা।

আরও জানা যায়, গত ২৪ মার্চ উত্তরার ৪ নং সেক্টরের হলি ল্যাবের সামনে থেকে শাহিন শেখ নামে ৬ বছরের একটি শিশু হারিয়ে গেলে উত্তরা পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়। জিডির সূত্র ধরে খোঁজ মেলে এ অপহরণ চক্রের। চক্রটি মূলত স্কুল-মাদ্রাসা, বাজার বা রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন জায়গায় একাকী থাকা ৮-১৬ বছর বয়সী শিশুদের টার্গেট করে, যারা পিতা-মাতার মোবাইল নম্বর বলতে পারে।

এ চক্রের মূলহোতা মিল্টন মাসুদ টার্গেটকৃত শিশুর সাথে ভালো ব্যবহার করে। শিশুদেরকে তার বাবার পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে অন্য কোথাও নিয়ে যায়। তারপর পিতা-মাতার মোবাইল নম্বর নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০-৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অনেক সময় ৫০০-১০০০ টাকা দিলেও শিশুদের ছেড়ে দেয়। আবার অনেক সময় টাকা না দিলেও দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেয়। প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চক্রটি ৫০০ থেকে ৬০০ শিশুর পিতা-মাতার কাছ থেকে এভাবে অর্থ আদায় করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা ও গাজীপুরে মো. মিল্টন মাসুদের নামে ৫টি এবং মো. শাহীনুর রহমানের নামে ৩টি মামলা রয়েছে।

আরএস