আবু সাঈদ হত্যা মামলা, আজও সাক্ষ্য দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৯:৪৩ এএম
আবু সাঈদ হত্যা মামলা, আজও সাক্ষ্য দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন জবানবন্দির শুরুতেই এ মামলার আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরার কথা রয়েছে। এরপর একে একে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন। গতকাল রবিবার দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি ১৬ আসামির দায় ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেছেন। অবশিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আজ সম্পন্ন করবেন। ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্তকালে কোথায় থেকে কবে, কীভাবে, কী জব্দ করেছেন; সবকিছু তিনি তুলে ধরছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর তাঁকে জেরা করবেন গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা।

এর আগে, ১০ ডিসেম্বর জবানবন্দি দেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। একই দিন তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেনেরও জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সবমিলিয়ে এ মামলায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। ৯ ডিসেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। জবানবন্দিতে তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পুরো ঘটনা বর্ণনা দেন। সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে কোথায় রাখা হয়েছিল তা বলতে গিয়ে তিনি নতুন এক 'সেইফ হাউজের' কথা জানান। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সময় টিভি, ডিবিসি, ৭১ টিভিসহ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের ‘নোংরা ভূমিকা’র কথা উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নির্দেশিত স্ক্রলই এসব চ্যানেলে প্রচার করা হতো।

এ মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। সাবেক ভিসিসহ বাকি ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। গত ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করা হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ৩০ জুন তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।

জেএইচআর