হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়েরের জন্য করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলা গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান না থাকায় আবেদনটি নাকচ করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক জানান, আবেদনটি পর্যালোচনা করে আদালত মামলার গ্রহণযোগ্য উপাদান না পাওয়ায় তা খারিজ করেছেন।
এর আগে গত ৫ জুলাই হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম আদালতে মামলার আবেদন করেন। ওই দিন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে রোববার (১২ জুলাই) আদেশ ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
মামলার আবেদনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে আসামি করার আবেদন জানানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ও মার্চের শুরুতে শরীয়তপুর সদরের ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকান উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মার্চের প্রথম সপ্তাহে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ২২ মার্চ তাকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আবেদন অনুযায়ী, সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার অভিযোগ তুলে বলা হয়, ২৬ মার্চ শিশুটির মায়ের হাতে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে সেটি শিশুর মুখে লাগাতে বলা হয়েছিল। তিনি তা করতে না পারলে পরে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাধ্যমে অক্সিজেন প্রয়োগ করা হয়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, শিশুদের টিকার সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা এবং টিকা সংগ্রহ ও প্রয়োগে অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলার কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাউদা মুসকানও রয়েছে।
এতে বলা হয়, হামজনিত শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ড. ইউনূস, নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে করা একাধিক মামলার আবেদনও খারিজ হয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন