জুলাই আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের বাদানুবাদ চলাকালে রাজনৈতিক প্রসঙ্গের অবতারণা হওয়ায় বিচারক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে এমন ধারণা থেকে বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে, চিফ প্রসিকিউটরের এমন মন্তব্যের পর আদালত তাঁকে কঠোরভাবে থামিয়ে দেন। এদিন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন আহমেদ শুনানির জন্য ১৮ জানুয়ারি তারিখ বরাদ্দের আবেদন করেন।
তিনি দাবি করেন, কারাগারে পলকের সঙ্গে পরামর্শ করার সময় কারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ নিতে দেয়নি, ফলে যথাযথ আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানির তারিখ আরও পেছানোর জন্য আদালতকে দয়াবান হওয়ার অনুরোধ করলে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি আদালতকে বলেন, ওনারা আসলে বিচারকাজকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন। ওনারা এই আশায় বসে আছেন যে, নির্বাচন হয়ে গেলে আর বিচার হবে না। সেই সুযোগের অপেক্ষায় থেকেই তাঁরা বিলম্ব করছেন। চিফ প্রসিকিউটরের এই রাজনৈতিক মন্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাইব্যুনালের প্রথম সদস্য বিচারপতি মো শফিউল আলম মাহমুদ।
তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন হলে কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে, এমন কথা বলবেন না, এমন কথা বলবেন না। তখন চিফ প্রসিকিউটর পাল্টা জবাবে বলেন, ওনারা বাইরে কী বলেন, সব কথা আমাদের কানে আসে। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার কড়াভাবে বলেন, আদালতে এসব কথা আর বলবেন না। আদালত স্পষ্ট করে দেন যে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ ধরনের রাজনৈতিক অনুমান বা মন্তব্যের কোনো স্থান নেই।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে, প্রসিকিউশন থেকে তাঁদের যে ১০টি ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করা হয়েছে, তার কয়েকটি তাঁরা খুলতে পারছেন না। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনারা যখন ফুটেজগুলো নিলেন, তখন প্রসিকিউশনের সামনে যাচাই করে বুঝে নেননি কেন, আপনাদের ডিভাইসে সমস্যা থাকতে পারে। চিফ প্রসিকিউটরও দাবি করেন, তাঁদের সব ফুটেজ সচল আছে এবং প্রয়োজনে আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় বসেই আজ তা যাচাই করতে পারেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বারবার ১৮ জানুয়ারি তারিখের জন্য অনড় থাকলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, চারদিন বা ৯৬ ঘণ্টা প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময়। চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার আগামী বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। অন্যদিকে, মামলার অপর প্রধান আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ইন্টারনেট শাটডাউন করে আন্দোলনকারীদের ওপর গণহত্যা চালানোর মূল নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই দুজন। আদালতের বার্তা হলো নির্বাচন বা আওয়ামী লীগ নিয়ে অনুমাননির্ভর বক্তব্য আদালতে গ্রহণযোগ্য নয় এবং আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আসামিপক্ষের পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন