মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করতে গেলে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ডিএনএ টেস্টে অসহযোগিতার কারণে তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র দুদকের মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কামাল হোসেনের প্রকৃত বাবা আবুল কাশেম এবং মা হাবীয়া খাতুন। কিন্তু তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা চাচা আহসান হাবীব ও চাচি সানোয়ারা খাতুনকে নিজের 'পিতা-মাতা' হিসেবে দেখিয়ে কাগজপত্রে জালিয়াতি করেন। এই ভুয়া পরিচয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি বাগিয়ে নেন।
সনদ ও পরিচয়ে জালিয়াতি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কামাল হোসেন এসএসসি, এইচএসসি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার সব সনদে নিজের বাবার পরিবর্তে চাচার নাম ব্যবহার করেছেন। এমনকি জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তিনি চাচা-চাচির নাম বসিয়েছেন। নবম শ্রেণি থেকে রেজিস্ট্রেশনের সময় এই সুক্ষ্ম জালিয়াতি শুরু করেছিলেন তিনি।
দুদকের পদক্ষেপ এর আগে গত ৪ নভেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তাধীন। দুদকের তদন্তে এই প্রতারণার সত্যতা পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় বা সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন