জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা চলছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালেই কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
গ্রেপ্তার ছয় আসামির মধ্যে রয়েছেন এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয় এবং একই দিন ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠন এবং ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুরু হয়, যা ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। ট্রাইব্যুনাল ৫ মার্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। এ ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা হচ্ছে।
রায় ঘোষণার প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের আশপাশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।
আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন বলেন, “আমরা চাই হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা, ফাঁসি হোক। যারা এখনও পলাতক তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।” বড় ভাই রমজান আলী বলেন, “বিচারপ্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। আমরা চাই রায় কার্যকর হোক এবং হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হোক।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন