বন্ধ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১২:১৬ এএম
বন্ধ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে সব বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সব বিচারককে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করলেও পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার তা আর আইনে পরিণত করেনি।

১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ’ সংক্রান্ত ২২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে’। তবে এর পর ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন গ্রেড নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারকের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। এই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট জুডিসিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস করার আদেশ দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করলে, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দেন।

ঐতিহাসিক সেই রায়ে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। যার মধ্যে ছিল—সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের থাকবে; বিচার বিভাগ জাতীয় সংসদ বা নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকবে না এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব বিচারক স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। এ ছাড়া জুডিসিয়ারির বার্ষিক বাজেট সুপ্রিম কোর্ট প্রণয়ন ও বরাদ্দ করবে, যেখানে নির্বাহী বিভাগের কোনো হাত থাকবে না।

আপিল বিভাগের ওই রায় ঘোষণার প্রায় ৮ বছর পর, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করা হয়। তবে সেই ঘোষণা দীর্ঘ সময় কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ১০ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে এক অভিভাষণে বলেন, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের স্বার্থে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ এখতিয়ার সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করে জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা না হলে বিচারকদের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে না।

এরপর একই বছরের ২৭ অক্টোবর পৃথক সচিবালয়ের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পাশাপাশি বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপারিশ করে। সব প্রক্রিয়া শেষে গত ৩০ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের উদ্দেশ্যে স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।

জেএইচআর