রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র পাঁচ দিনের দ্রুততম তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ। এরপর আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের সেই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান।
এর আগে গত ২০ মে পেশায় অটোরিকশা মেকানিক মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, মূল আসামী সোহেল রানা (৩০) শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে এবং প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করে। আর তাকে আড়াল করতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং আলামত ধ্বংসের কাজে সরাসরি মেতে ওঠেন তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (২৬)।
নিজের জবানবন্দিতে সোহেল জানান, সাবলেটের অন্য ভাড়াটিয়ারা কর্মক্ষেত্রে চলে যাওয়ার পর সকালে তিনি নিয়মিত মাদক নিতেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার রামিসাকে দেখতে পেয়ে তিনি নিজের ঘরে ডেকে নেন। শিশুটি ভেতরে আসতেই তাকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রামিসা চিৎকার শুরু করলে সোহেল তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে সে মারা গেছে বলে ধরে নেন সোহেল। এরপর অপরাধের প্রমাণ লুকাতে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা চালান তিনি।
তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে অন্য তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা কাটার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকেই রামিসার মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ তার শরীরের সব আঘাতের চিহ্ন ছিল জীবিত থাকা অবস্থার।
সোহেলের স্বীকারোক্তিতে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতির বিবরণও উঠে এসেছে। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবাই যখন নিখোঁজ রামিসাকে খুঁজছিল, তখন তার মা সোহেলের ঘরের সামনে রামিসার জুতো জোড়া দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে রামিসাকে ডাকতে শুরু করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা সোহেলের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন।
সোহেল আরও বলেন, ওই সময় আমার স্ত্রী আমাকে ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। আমি মেকানিক কাজের রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলার চেষ্টা করি। বাইরে থেকে লোকজন যখন দরজা ভাঙার উপক্রম করছিল, তখন আমার স্ত্রী ভেতর থেকে শক্ত করে দরজা চেপে ধরে রেখেছিল, যাতে আমি জানালা দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারি।
জবানবন্দিতে সোহেল নিশ্চিত করেন, তিনি জানালা দিয়ে নিরাপদে সটকে পড়ার পরপরই তাঁর স্ত্রী বাইরের লোকজনের জন্য ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন