সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্মিলিতভাবে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানানো হবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া কোনো অভিযোগই যাতে প্রতিহিংসামূলক বা ভুয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) ঢাকা ক্লাবে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিয়ে তারা এসব কথা বলেন।
দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। এছাড়া চিফ প্রসিকিউটর, আইন বিটের সাংবাদিক এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রামিসা হত্যা মামলার আপিল শুনানি দ্রুততম সময়ে করতে রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্মিলিতভাবে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাংবাদিকতা একটি পেশাদারিত্বের জায়গা ধরে রেখেছে এবং এ অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া অভিযোগগুলো যাতে প্রতিহিংসামূলক বা ভুয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে মামলার সংখ্যা বাড়ায় দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় মামলাজট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা থাকায় বিচার বিভাগের সঙ্গে সাংবাদিকদের মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের বিচার ধীরগতিতে চলছে, এতে আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তিনি রামিসা হত্যার বিচারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, দ্রুত বিচার সম্ভব হলে তা প্রমাণ করে রাষ্ট্রের সক্ষমতা রয়েছে। সাড়ে বারোশো মৃত্যুদণ্ডের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন