মোজাফফরকে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
মোজাফফরকে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

মোজাফফরকে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আদালতকে জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় মিলিটারি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, যেহেতু মোজাফফর বর্তমানে সামরিক বাহিনীর অধীনে রয়েছেন, তাই তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া জরুরি। শুনানি শেষে আদালত তাকে আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।

এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ প্রসিকিউশনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোজাফফরের সহযোগীদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিচার জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এএন