স্ন্যাকস হিসেবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের জনপ্রিয়তা রয়েছে প্রায় প্রতিটি দেশেই। ছোট থেকে বড় সবারই খাবারটির প্রতি দুর্বলতা কাজ করে। সুস্বাদু এই খাবারটি সকাল কিংবা বিকেলের নাশতা বা আড্ডায় জমে যায় দারুণ। কিন্তু কীভাবে এই খাবারটি দেশ বিদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠল জানেন?
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের জন্ম নিয়ে বেশকিছু মতভেদ আছে। শোনা যায় এ বিষয়ে একাধিক কাহিনি। আসুন জেনে নিই ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ইতিহাস।
১. কলম্বিয়া: ধারণা করা হয়, ১৫৩৭ সালে স্প্যানিশ নাগরিক জিমেনেজ দে কুয়েসেডা তার দলবল নিয়ে কলম্বিয়া সফরে যাওয়ার পর থেকে এই খাবারটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সফর চলাকালীন সময়ে তিনি একটি গ্রামে নতুন ধরনের আকারে বড় আলুর সন্ধান পেয়েছিলেন। তারা ওই আলুর নাম দেন 'ট্রাফলস'। যা লম্বা করে কেটে ভাজা খেতে শুরু করে তারা। খাবারটি সুস্বাদু হওয়ায় এর প্রায় ২০ বছর পর স্পেন ও ইতালিতে ওই প্রজাতির আলুর চাষ শুরু হয়।
২. বেলজিয়াম: ১৫৫৭ সালের পরে বেলজিয়ামে বড় আলুর চাষ শুরু হয়। সেসময়ই বেলজিয়ামবাসীদের বাজারে মাছের সংকট দেখা দেয়। অথচ মাছ খেতে খুব ভালোবাসেন তারা। মাছকে পাতলা করে কেটে ভেজে না খেতে পারায় বেলজিয়ামবাসীরা তখন মাছের বদলে আলুকে সরু সরু করে কেটে খাওয়া শুরু করলো। খেতে বেশ মজাদার হওয়ায় ১৭ বা ১৮ শতকের শেষের দিকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।
৩. ফ্রান্স: তবে বেশিরভাগ মানুষই মনে করে, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের জন্ম ফ্রান্সে। ফ্রান্সে আলুর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছিলেন সে দেশের সেনাবাহিনীর চিকিৎসক অ্যান্টনি অগাস্টিন পারমেনতিয়ার। ১৭৭২ সালে প্যারিসের মেডিক্যাল বিভাগ আলু খাওয়া নিরাপদ জানালে আলুর চাষ সেদেশে শুরু হয়। আলু খাওয়া হয়ে ওঠে জনপ্রিয় তবে আলুর আকাল দেখা দিলে তার ছন্দপতন ঘটে ১৭৮৫ সালে।
প্রায় ১০ বছর পর ফের প্রচুর পরিমাণ আলুর চাষ শুরু হয় ফ্রান্সে। ওই সময়ই ফরাসিরা আলু সরু সরু করে কেটে ভেজে খেতে শুরু করেন। সেই আলু ভাজাই বর্তমানের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।
সূত্র: আজ তাক বাংলা
আরইউ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন