ইউরোপের ‘সবচেয়ে গোপন’ দ্বীপে কী আছে, যা পর্যটকদের টানছে?

জীবনযাপন ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম
ইউরোপের ‘সবচেয়ে গোপন’ দ্বীপে কী আছে, যা পর্যটকদের টানছে?

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে নির্জন ও কম পরিচিত দ্বীপ এল হিয়েরো ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় গোপন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। বড় বড় রিসোর্ট, পর্যটকদের ভিড় কিংবা ব্যস্ত নগরজীবনের ছাপ না থাকলেও প্রকৃতি, ইতিহাস ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার কারণে দ্বীপটি ভ্রমণপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এল হিয়েরোতে পৌঁছাতে হলে টেনেরিফে থেকে ফেরিতে প্রায় আড়াই ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা করতে হয়। একসময় এটিকেই পরিচিত বিশ্বের পশ্চিমতম সীমান্ত মনে করা হতো। এমনকি আমেরিকা অভিযানে বের হওয়ার আগে ক্রিস্টোফার কলম্বাসও এই দ্বীপকে ইউরোপের শেষ ভূমি হিসেবে দেখেছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

মাত্র ১০০ বর্গমাইল আয়তনের দ্বীপটিতে বাস করেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ। এখানে নেই বড় শহরের কোলাহল, এমনকি পুরো দ্বীপে রয়েছে মাত্র একটি ট্রাফিক সিগন্যাল। অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল, যা আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি খুঁজতে আসা পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

‘এক হাজার আগ্নেয়গিরির দ্বীপ’ নামে পরিচিত এল হিয়েরোতে রয়েছে শত শত আগ্নেয়গিরির গহ্বর, লাভার প্রবাহের চিহ্ন, সবুজ বনভূমি, খাড়া আগ্নেয় শিলা ও নীল সমুদ্রের অনন্য সমন্বয়। দ্বীপটির বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতি দেখা যায়, যা একে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

কৃষি ও মদ উৎপাদনও দ্বীপটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে বিরল ও প্রাচীন আঙুরের জাত সংরক্ষণের জন্য এল হিয়েরো বিশেষভাবে পরিচিত। ইউরোপের বহু অঞ্চলে আঙুরখেত ধ্বংসকারী রোগের প্রভাব পড়লেও এই দ্বীপের আঙুরখেত সেই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

সামুদ্রিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেও এল হিয়েরো অনন্য। দক্ষিণাঞ্চলের লা রেস্তিঙ্গা এলাকা এবং ‘মার দে লাস কালমাস’ সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল ইউরোপের অন্যতম সেরা ডাইভিং গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। স্বচ্ছ পানি, আগ্নেয়গিরির নিচের গঠন ও সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ডুবুরিদের কাছে এটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

দ্বীপটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সিলবো এরেনিও’ নামের শিসভিত্তিক ভাষা। একসময় দূরত্বে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত এই ভাষা এখন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণেও এল হিয়েরো বিশ্বের নজর কেড়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত ‘গোরোনা দেল ভিয়েন্তো’ প্রকল্প দ্বীপটির বিদ্যুতের বড় অংশ সরবরাহ করে। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও টেকসই পর্যটনের কারণে এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

স্থানীয়দের মতে, এল হিয়েরোর আসল আকর্ষণ কোনো বিলাসবহুল অবকাঠামো নয়; বরং শান্ত, ধীর ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন। সেই স্বকীয়তাই আজ দ্বীপটিকে ইউরোপের অন্যতম ব্যতিক্রমী ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে।

এএন