ঘামাচি থেকে রেহাই পেতে যা করবেন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫, ০৬:০২ পিএম
ঘামাচি থেকে রেহাই পেতে যা করবেন

বাইরে বের হলেই প্রচণ্ড গরম, রোদ আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় প্রাণান্তকর অবস্থা। এ সময় ছোট-বড় সবার ত্বকে ঘামাচি বা ‘হিট র‌্যাশ’ ওঠে। এটি যন্ত্রণাদায়ক ও বিব্রতকর।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “গরমে ঘাম বের হওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে ঘাম জমে ফোসকা তৈরি হয়। এটাই ঘামাচি।”

ঘামাচি হওয়ার কারণ

গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ত্বকের লোমকূপ বা ঘর্মগ্রন্থির মুখ আটকে গেলে ঘাম জমে ছোট ছোট ফোসকা বা লাল দানা তৈরি হয়। এটি ‘মিলিয়ারিয়া’ নামে পরিচিত।

সাধারণত ত্বকের ভাঁজে (বগল, কুঁচকি) বেশি হয়। তবে শিশুদের সারা গায়ে এমনকি মাথায়ও হতে পারে। প্রচণ্ড চুলকানি ও জ্বালা করে।

সাধারণত ঘামাচি দুই ধরনের

  • মিলিয়ারিয়া রুবরা: লালচে দানা, তীব্র চুলকানি।
  • মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা: পরিষ্কার পানিভরা ফোসকা।
  • সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে নিজে নিজে সেরে যায়। ত্বক ঠাণ্ডা রাখলে দ্রুত কমে।

ঘামাচি থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়

পানিশূন্যতা এড়ান: প্রচুর পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত পান করতে হবে। শরীর আর্দ্র থাকলে ঘামাচির ঝুঁকি কমে।

ঘরের পরিবেশ ঠাণ্ডা রাখা: ঘরে ফ্যান বা এসি চালিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। ঘরের আর্দ্রতা কম রাখা গেলে ভালো।

সঠিক গোসলের অভ্যাস: বাইরে থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করা যাবে না। ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে ঘাম শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করতে হবে।

প্রথমে পা, হাত ভিজিয়ে ধাপে ধাপে মাথায় পানি দিলে শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয়।

ত্বক শুষ্ক রাখা: ঘামে ভেজা জামাকাপড় দ্রুত পালটে নিতে হবে। ফ্যানের বাতাসে শরীর শুকিয়ে ঢিলেঢালা সুতির হালকা রংয়ের পোশাক পরতে হবে যাতে বাতাস চলাচল করে।

প্রাকৃতিক উপায়ে সেঁক: ঘামাচির কারণে চুলকানি হলে, ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় বা ‘আইস প্যাক’ দিয়ে সেঁক দিলে উপকার মেলে। ‘ক্যালামাইন লোশন’ মাখা যেতে পারে। তবে নখ দিয়ে আঁচড়ানো যাবে না, সংক্রমণ হতে পারে।

লোশন ও তেল এড়িয়ে চলা: ভারী লোশন বা তেল-ধর্মী পদার্থ ত্বকে লাগানো যাবে না। এতে লোমকূপ আরও বন্ধ হয়। হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন

ডা. নয়ন বলেন, “শিশুদের ঘামাচি সারা গায়ে হতে পারে। তাদের হালকা সুতির পোশাক পরান। ঘাম শুকিয়ে নিয়ে গোসল করান। পাউডার ব্যবহার না করে ক্যালামাইন লোশন লাগান।”

যখন ডাক্তার দেখানো জরুরি

ঘামাচি যদি খুব বেশি চুলকায়, জ্বালা করে, পুঁজ হয় বা জ্বর আসে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই পরিস্থিতির নাম ‘মিলিরিয়া প্রোফাউন্ডা’। সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।

প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো

  • গরমে হালকা পোশাক পরতে হবে।
  • ঘাম শুকিয়ে নিয়ে তারপর গোসল করা উপকারী।
  • ত্বক শুষ্ক রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি।
  • ফ্যানের নিচে সরাসরি না ঘুমানোই ভালো।

গরমে ঘামাচি একটি সাধারণ সমস্যা। তবে অবহেলা করলে সংক্রমণ হতে পারে।

সঠিক গোসলের অভ্যাস, ত্বক শুষ্ক রাখা এবং পানিশূন্যতা এড়ানোই পারে এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই দিতে।

জেএইচআর