লিখতে বসলে হাত কাঁপা অনেকের জন্য দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেরই অন্যান্য সময় হাত স্বাভাবিক থাকলেও লেখার সময় ঘটে বিপত্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ‘Task-Specific Tremor’ বা Primary Writing Tremor (PWT) নামে পরিচিত। সাধারণত এই কাঁপুনি কেবল লিখার সময়ই দেখা দেয় কিন্তু বিশ্রামের সময় কমে যায়। সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, Task-Specific Tremor একটি চিকিৎসাযোগ্য স্নায়ুবিক সমস্যা, যা প্রতিনিয়ত লেখার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
এ সম্পর্কে নিউরোলজিস্টরা জানান, PWT মূলত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে স্নায়ুবিক পরিবর্তন ও মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি writer`s cramp-এর মতো মনে হলেও, এটি মূলত আলাদা কারণ এটি শুধু নির্দিষ্ট কাজের সময়ই হাত কাঁপে।
লিখতে গিয়ে হাত কাঁপা (hand tremor) কয়েকটি কারণে হতে পারে। সাধারণত এটি ভয়ঙ্কর কিছু নয়, তবে কখনও কখনও স্বাস্থ্যগত সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে।
সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:
১. নার্ভাসনেস বা মানসিক চাপ: পরীক্ষা দিতে বসলে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু লিখতে হলে, বা টেনশনে থাকলে হাত কাঁপতে পারে।
২. Essential tremor: এটি একটি সাধারণ স্নায়বিক সমস্যা, যেখানে বিশেষ করে কাজ করার সময় (যেমন লিখতে গেলে, গ্লাস ধরতে গেলে) হাত কেঁপে ওঠে।
৩. থাইরয়েড সমস্যা: থাইরয়েড হরমোন বেশি হলে হাত কাঁপা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
৪. স্নায়বিক সমস্যা: বিরল ক্ষেত্রে পারকিনসনস ডিজিজের মতো অসুখে হাত কাঁপা দেখা দিতে পারে, তবে সাধারণত সেটা বিশ্রামের সময়ও কাঁপে।
৫. ওষুধের প্রভাব: অতিরিক্ত চা, কফি, এনার্জি ড্রিঙ্ক বা কিছু ওষুধ খেলে হাত কাঁপা দেখা দিতে পারে।
৬. ভিটামিন ঘাটতি: বিশেষ করে ভিটামিন B12-এর অভাব স্নায়ুকে প্রভাবিত করে হাত কাঁপাতে পারে।
দেশে এই ধরনের রোগীর জন্য জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NINS), ঢাকা-তে পরামর্শ ও চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশ্বখ্যাত নিউরোলজিস্ট ড. এলান ডি. লুইস (Yale University) এর গবেষণায় বলা হয়েছে, PWT-এর চিকিৎসায় ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, মানসিক চাপ কমানো এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লিখতে বসলে হাত কাঁপা রোগীরা দ্রুত নিউরোলজিস্ট দেখানো উচিত।
এইচই/জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন