বাংলাদেশে শীতকাল এলেই শুরু হয় বিয়ের হিড়িক। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই তিন মাসকে সাধারণত বিয়ের সিজন বলা হয়। সামাজিক, আবহাওয়াগত এবং সাংস্কৃতিক নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরেই শীতকালকে বিয়ে আয়োজনের উপযোগী সময় হিসেবে বেছে নিচ্ছে পরিবারগুলো।
গরমের তুলনায় শীতের আবহাওয়া বিয়ে আয়োজনের জন্য অনেক বেশি অনুকূল। না থাকে অতিরিক্ত গরম, না থাকে বর্ষার অনিশ্চয়তা। বিয়ের প্যান্ডেল, মঞ্চ সাজসজ্জা, খাবার পরিবেশন সব ক্ষেত্রেই শীতের আবহাওয়া সুবিধা এনে দেয়।
বিরিয়ানি, কোরমা, রোস্টের মতো ভারী খাবার শীতকালে বেশি উপভোগ্য হওয়ায় এই সময় অতিথি আপ্যায়নও সহজ হয়। গরমে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও শীতে খাবার ভালো থাকে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে শীতকালে শুভ লগ্নের সংখ্যা বেশি থাকায় এই সময়ে বিয়ের চাপ বেড়ে যায়। মুসলিম পরিবারেও সামাজিকভাবে শীতকে উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়।
ফটোগ্রাফারদের ও বিউটিশিয়ানরা মনে করেন, শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বর-কনের সাজগোজ দীর্ঘসময় অটুট থাকে। ঘাম না হওয়ায় ছবি ও ভিডিওতেও বাড়তি সৌন্দর্য ধরা পড়ে।
ছুটি ও পারিবারিক সুবিধার কারণেও শীতে এ আয়োজন করা হয়। ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি থাকায় আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি বাড়ে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমন ধানের মৌসুম শেষে নগদ অর্থ প্রবাহ বেড়ে যাওয়াও বিয়ে আয়োজনকে সহজ করে তোলে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শীতকে বিয়ের মৌসুম হিসেবে অনুসরণ করায় এটি এখন সাংস্কৃতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পরিবারগুলোও তাই বছরের পরিকল্পনা সাজান শীতকালকে কেন্দ্র করে।
দেশজুড়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিভিন্ন বিয়ে বাড়ির প্রস্তুতি। কনভেনশন সেন্টার থেকে শুরু করে ক্যাটারিং সার্ভিস সবখানেই বুকিং বেড়েছে কয়েকগুণ।
লেখক: সংবাদকর্মী
ইএইচ/এসআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন