গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবেই জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি হতে পারে। গুলি শরীরের কোন স্থানে লেগেছে, গুলির ধরণ কী, এবং কত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়েছে এইসব উপাদানের ওপর নির্ভর করে আহত ব্যক্তির জীবন কতটুকু ঝুঁকির মাঝে রয়েছে। তবে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই বিপদ সামলানো সম্ভব। নিচে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, এবং কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন, তা ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।
যদি আপনি বা আশেপাশের কেউ গুলিবিদ্ধ হন, তবে প্রথমেই একটি নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। যেন পুনরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগ না থাকে। আহত ব্যক্তি হাঁটতে বা দৌড়াতে পারলে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। তা না হলে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।
দুর্ঘটনাবশত গুলিবিদ্ধ হলে নিশ্চিত করুন যে অস্ত্রধারী ব্যক্তির মাধ্যমে যেন আর কারও ক্ষতি না হয়। তারপর জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিন এবং অপারেটরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় উপায়।
নিরাপদ অবস্থানের পর গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। সেক্ষেত্রে যদি এম্বুলেন্স সহযোগিতা নেওয়া গেলে ভালো তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা সম্ভব না হলে আশেপাশে থাকা যানবাহন ব্যবহার করুন।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো রক্তপাত থামানো। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে বাঁচাতে ক্ষত স্থানে বা আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে রক্ত বের হচ্ছে কিনা তা লক্ষ্য করুন এবং সেই স্থানে শক্ত চাপ দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে। রক্তপাত বেশি হলে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরার মতো জোরালো চাপও প্রয়োজন হতে পারে।
তারপর ক্ষতস্থানে পরিষ্কার কাপড়, গজ, তোয়ালে বা যেকোনো কাপড় চেপে ধরুন। এতে রক্ত জমাট বাঁধতে সুবিধা হবে। পেশাদার টুর্নিকেট থাকলে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ভুলভাবে লাগালে বিপদ বাড়তে পারে। টুর্নিকেট না থাকলে চাপ দেওয়ার ওপরই জোর দিন।
মনে রাখবেন আহত ব্যক্তিকে কখনোই পানি, খাবার বা পানীয় দেওয়া যাবে না। শকে গেলে বমি হতে পারে এবং খাবার-তরল শ্বাসনালিতে ঢুকে যেতে পারে। তাছাড়া অনেকেই আহত ব্যক্তির পা উঁচু করে দেন, এটি ভুল। এতে বুক বা পেটের গুরুতর রক্তপাত বেড়ে যেতে পারে এবং শ্বাসকষ্টও তৈরি হতে পারে।
ব্যক্তি সচেতন থাকলে তিনি যেভাবে আরাম পান সেভাবে বসতে বা শুতে দিন। অচেতন হলে রিকভারি পজিশন-এ (কাত হয়ে, এক পা ভাঁজ করে) রাখুন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন