প্রখর দাবদাহে মেয়েদের ত্বক ও চুল সুন্দর রাখার চ্যালেঞ্জ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
প্রখর দাবদাহে মেয়েদের ত্বক ও চুল সুন্দর রাখার চ্যালেঞ্জ

চলতি মৌসুমের তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন এখন ওষ্ঠাগত। সূর্য যেন আগুনের হলকা ছড়াচ্ছে চারদিকে। এই প্রচণ্ড গরমে শুধু যে শরীরের ক্লান্তি বাড়ছে তা নয়, বরং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শরীরের বাইরের আবরণ, ত্বক ও চুল। 

তীব্র রোদে ত্বক পুড়ে কালচে হয়ে যাওয়া, ঘামাচি, র‍্যাশ এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে এই সময়ে শরীরের ওপর বাড়তি ধকল যায়। 

তবে সঠিক যত্ন আর কিছু সচেতনতাই পারে এই তপ্ত গরমেও আপনাকে সতেজ ও সুন্দর রাখতে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা তুলে ধরব গরমে ত্বক ও চুলের সুরক্ষায় আধুনিক ও ঘরোয়া কিছু কার্যকর উপায়।

গরমের দিনে বাতাসের আর্দ্রতা ত্বকের তৈলাক্ত গ্রন্থিগুলোকে অতিসক্রিয় করে তোলে। ফলে মুখ তেলতেলে হয়ে যায় এবং ধুলোবালি জমে ব্রণের উপদ্রব বাড়ে। তাই ত্বকের সুরক্ষায় কিছু নিয়ম মানা এখন সময়ের দাবি। বাইরে বের হলে বা দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ত্বকের লোমকূপে ঘাম ও ময়লা জমে যায়। তাই দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ বার ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া জরুরি। 

বিশেষ করে বাইরে থেকে ফেরার সাথে সাথেই ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব এবং লোমকূপ সংকুচিত রাখতে দিনে দুবার ভালো মানের টোনার ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করে।

রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এখন বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের অকাল বার্ধক্য এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে সূর্য সুরক্ষা গুণক বা এসপিএফ ৩০ প্লাস যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার নিশ্চিত করুন। 

মনে রাখবেন, একবার সানস্ক্রিন মাখলে তা মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা কার্যকর থাকে, তাই দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে পুনরায় ব্যবহার করা ভালো। ত্বক সতেজ রাখার সবচেয়ে বড় গোপন সূত্র হলো পানি। ভেতর থেকে আর্দ্রতা না থাকলে কোনো প্রসাধনীই কাজ করবে না। প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন। 

পাশাপাশি ডাবের পানি, তাজা ফলের রস এবং প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খান। গরমে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের জ্বালাপোড়া ও রোদে পোড়া ভাব বা সানবার্ন কমাতে শসা ও টক দইয়ের প্যাক অত্যন্ত কার্যকর। শসার রস ত্বকে শীতলতা আনে এবং টক দই ত্বকের কালচে ভাব দূর করে।

গরমে ঘাম জমে চুলের গোড়া নরম হয়ে যাওয়া এবং খুশকির উপদ্রব বাড়া একটি সাধারণ সমস্যা। নিয়মিত যত্ন না নিলে এই মৌসুমে চুল পড়ার হার দ্বিগুণ হতে পারে। মাথার তালু বা স্ক্যাল্প ঘামলে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন মৃদু বা মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার রাখা উচিত।

খুব কড়া বা রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু এই সময়ে চুলের ক্ষতি করতে পারে। চুলের যত্নে অ্যালোভেরা জেল একটি মহৌষধ। এটি মাথার তালুর চুলকানি কমায় এবং চুল পড়া রোধ করে। এছাড়া টক দইয়ের সাথে নিমপাতা বাটা মিশিয়ে চুলে লাগালে তা খুশকি ও জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। 

অনেকে ভাবেন গরমে তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই, যা একটি ভুল ধারণা। শ্যাম্পু করার আগের রাতে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে মালিশ করলে চুলে পুষ্টি পৌঁছায়। তবে এই সময়ে ভারী তেলের চেয়ে হালকা কাঠবাদাম বা আমন্ড অয়েল বেশি আরামদায়ক হতে পারে। ত্বকের মতো চুলকেও রোদ থেকে আড়াল করা জরুরি। কড়া রোদে বের হওয়ার সময় ছাতা, চওড়া হ্যাট বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। সূর্যের সরাসরি তাপ চুলের কিউটিকল নষ্ট করে চুলকে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে দেয়।

গরমে সিন্থেটিক কাপড় এড়িয়ে সুতির হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। এটি ঘাম শোষণ করে ত্বককে র‍্যাশ থেকে রক্ষা করবে। গরমকালে ক্রিম ভিত্তিক ভারী ময়শ্চারাইজারের বদলে জেল ভিত্তিক ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে চটচটে না করেই প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দেবে। ত্বক ও চুলের কোষ পুনর্গঠনের জন্য রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম আবশ্যক। 

প্রকৃতির রুদ্ররূপকে আমরা বদলাতে পারব না, তবে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে এর প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। মনে রাখবেন, কেবল বাইরে থেকে প্রসাধনী মাখলেই হবে না, সুস্থ ত্বক ও চুলের জন্য সুষম খাদ্য এবং মানসিক প্রশান্তিও জরুরি। আজ থেকেই নিজের জন্য একটু বাড়তি সময় বের করুন এবং নিয়মগুলো মেনে চলুন, তপ্ত রোদেও আপনি থাকবেন স্নিগ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী। আপনার সুস্থতা ও সৌন্দর্যই আমাদের কাম্য। এই গরমে নিরাপদ থাকুন, আর্দ্র বা হাইড্রেটেড থাকুন।

জেএইচআর