জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ-আহত তালিকা যাচাই করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৫, ০৩:১২ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ-আহত তালিকা যাচাই করছে সরকার

ব্যাপক সমালোচনার পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই শুরু করেছে সরকার। আন্দোলনে যুক্ত না থেকেও তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) তালিকা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হিসেবে ৮৩৪ জনের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়। পরে ৩০ জুন আরও ১০ জনের নাম যুক্ত হয়। এতে শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪৪ জনে।

তবে ৩ আগস্ট গেজেট থেকে আটজনের নাম বাদ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনের নাম দ্বৈতভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল, আর বাকি চারজন সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেননি। বর্তমানে শহীদের সরকারি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৬ জনে।

বিশেষভাবে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে যশোরে নিহত ২৪ জনকে শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন যশোর শহরের হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যু হয়। তবে তারা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যশোর জেলা প্রশাসককে আলাদা চিঠি দিয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের শহীদের তালিকায় রাখা হবে, নইলে বাদ দেওয়া হবে।

প্রথম তালিকায় আহতদের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৪৩ জন। গত জুলাইয়ে আরও ১ হাজার ৭৫৭ জন যুক্ত হওয়ায় সরকারি গেজেট অনুযায়ী এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮০০। তবে এখানেও ভুয়া নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত আহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রতিটি শহীদ পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্র হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাকি ২০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া শহীদ পরিবার মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছে।

তবে যশোরে নিহত ২৪ জনের পরিবারকে এখনও সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়নি। যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সহায়তা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শাখার প্রধান যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন,‘কয়েকটি জেলা থেকে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সব জেলার তথ্য আসার পর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। আন্দোলনে সম্পৃক্ত না থেকেও যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা বাদ যাবে।’

সরকার আশা করছে, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব বিতর্ক দূর হবে এবং প্রকৃত শহীদ ও আহতদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা যাবে।

ইএইচ