রিজওয়ানা হাসান

অস্থিরতা রোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে অন্তর্বর্তী সরকার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ১২:১০ পিএম
অস্থিরতা রোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে অন্তর্বর্তী সরকার

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘিরে সম্ভাব্য উত্তেজনা ও সহিংসতা মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে নানা পক্ষের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা স্পষ্ট হলেও সরকার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো সক্ষমতা ও প্রস্তুতি দুটোই অর্জন করেছে।

সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি জনসচেতনতা-ভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজনৈতিক উত্তেজনা, sporadic সহিংসতা এবং বিচারপতি প্রদত্ত রায়ের আগে-পরে সংঘাতের শঙ্কা বাড়ায় তার বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, শেখ হাসিনার রায় এবং সামনে জাতীয় নির্বাচন-এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে। কিছু গোষ্ঠী চেষ্টা করছে উত্তেজনা সৃষ্টি করে দেশে একটি নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলছি, সরকার এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

তিনি উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা আমলে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। তার ভাষায়, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা সেই পর্যায়ে যেতে পারবে না। রাষ্ট্রের সক্ষমতা অতীতে যেমন ছিল, এখন আরও বাড়ছে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা সম্প্রতি তার বাসায় হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ঘটনাটি তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত করেনি। বরং দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতা, আগুন দেওয়া, হতাহত হওয়া-এসব পরিস্থিতিকে তিনি বেশি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমার বাসায় যারা হামলা করেছে, তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তারা চায় রাষ্ট্রকে অচল দেখাতে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এতে আতঙ্কিত নই। বরং দেশের বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগানো হচ্ছে, মানুষের প্রাণহানি ঘটছে এসব নিয়ে আমাদের প্রধান উদ্বেগ।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয় যে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সরকার একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে চাইছে।

রাজধানী ঢাকায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাইব্যুনাল এলাকা, প্রধান সড়ক, সংবেদনশীল রাজনৈতিক কার্যালয়, সরকারি দপ্তর এবং বিভিন্ন স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন আছে। অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে মেট্রোপলিটন পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে আছে। তাদের কাজ হচ্ছে বিশৃঙ্খলতা না হতে দেওয়া। প্রশাসনিকভাবে আমরা প্রস্তুত; সামাজিকভাবেও মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন।

রিজওয়ানা হাসানের ভাষায়, যারা ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত, তারা মূলত রাষ্ট্রকে দুর্বল দেখানোর কৌশল নিয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া আর কিছু নেই। দেশের বর্তমান রূপান্তরধর্মী রাজনৈতিক পরিস্থিতে তারা চায় ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে।

তিনি মনে করেন, জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনায় প্রভাবিত হওয়ার হারও কমে এসেছে। মানুষ বিচার চায়, নির্বাচন চায়, স্থিতিশীলতা চায় এটাই এখন দেশের সাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশা,বলেন তিনি।

রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেখাতে চাইছে যে রাষ্ট্রীয় শূন্যতা বা শাসন-সংকট কোনোভাবে তৈরি হবে না। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় বজায় রেখে সরকার আইন ও বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখতে চায়।

এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায়কে ঘিরে বিশ্বের নজর এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। অনেকেই আশঙ্কা করছেন রায়ের আগে ও পরে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা দিতে পারে। তবে সরকারের মতে, পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না।

রিজওয়ানা হাসান ব্যাখ্যা করে বলেন, এমন একটি মামলার রায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত পরিস্থিতিতে যেকোনো রায়কে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থীরা সুযোগ নিতে পারে। সেজন্যই সরকার আগে থেকেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাজই হচ্ছে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা সে কাজই করছি। এসব ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে যেন সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

তার বক্তব্যের শেষাংশে শক্ত বার্তা দিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ওরা যেটা করতে চায়-রাষ্ট্রকে অচল দেখানো, ভয় দেখানো-সেই পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ আমরা দেব না। সরকারের প্রতিটি অঙ্গ প্রস্তুত আছে।

তিনি বলেন, জনগণও শান্তি চায়; তাই যেকোনো উসকানি বা সহিংসতা রোধে প্রশাসন ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করবে।

জেএইচআর