প্রধান উপদেষ্টা

মানবাধিকারকে বিশ্বাসের অংশ হিসেবে প্রচার করা উচিত

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১০, ২০২৫, ১০:৩৯ এএম
মানবাধিকারকে বিশ্বাসের অংশ হিসেবে প্রচার করা উচিত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানবাধিকারকে বিশ্বাসের একটি অংশ হিসেবে প্রচার করা উচিত, যাতে প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য মর্যাদা ও কোনো বৈষম্য ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত হয়।

বুধবার 'মানবাধিকার দিবস' উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ বছর দিবসটি 'মানবাধিকার, আমাদের নিত্যদিনের অপরিহার্য' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, "আমরা আমাদের জাতীয় মানবাধিকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং জাতিসংঘের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে কাজ করার এবং বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সকল আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।"

তিনি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র ও জাতিসংঘ সনদে সন্নিবেশিত সকল মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর এবারের মানবাধিকার দিবস উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে এ দেশের সর্বস্তরের জনগণ নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনকে পরাজিত করে জনগণের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে একটি গণতান্ত্রিক, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ গঠন এবং আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার পথ নির্ধারণ করা যায়।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার সুদৃঢ় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই রায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সদস্যদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

ড. ইউনূস গর্বের সঙ্গে জানান, বাংলাদেশ এখন এমন একটি জাতি হিসেবে দাঁড়িয়েছে যারা মানবাধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ৯টি মূল আন্তর্জাতিক চুক্তির সবগুলোতে যোগ দিয়েছে। এর সর্বশেষটি হলো গুম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন 'ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসন্স ফ্রম এনফোর্সড ডিসেপিয়ারেন্স'। এছাড়াও বাংলাদেশ নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকল এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সব মূল কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে, যা শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের সক্রিয় অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। সংঘাত, মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অধিকার সুরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আট বছর পরও মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুততম সময়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসন কার্যকর করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

গাজাসহ বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সোচ্চার এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার জন্য ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য সংগ্রামে সংহতি প্রকাশ করেন ড. ইউনূস।

জেএইচআর