জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের গ্রেফতারে ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শুক্রবার বিকেলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। ছাত্রদল এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদবিরোধী কণ্ঠরোধের এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ওসমান হাদি ছিলেন একজন আপসহীন তরুণ নেতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের অগ্রপথিক। ছাত্রদলের অভিযোগ, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পূর্বপ্রস্তুতি ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং আন্তরিকতার অভাব ছিল। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মূল হত্যাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বর্তমানে গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-যুব ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো—১) হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা; ২) হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র এবং সংশ্লিষ্টদের অবহেলা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত করা; ৩) অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল কর্মীর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ৪) রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড রোধে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ জানান, আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
শহীদ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তারা সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায়, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় ছাত্রসমাজ রাজপথে আরও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন