তুরাগ নদীর তলদেশে স্থাপিত গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করতে গিয়ে পাইপে পানি ঢুকে পড়ায় রাজধানীজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। শীতকালীন সাধারণ স্বল্পচাপের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই যান্ত্রিক গোলযোগে গত তিন দিন ধরে রান্নাবান্না নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, গত বুধবার ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া একটি বিতরণ পাইপলাইন মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিকেজ মেরামতের সময় দুর্ঘটনাবশত পাইপের ভেতরে নদীর পানি ঢুকে পড়ে। এর ফলে পাইপলাইনের স্বাভাবিক সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পুরো ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সমস্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গাবতলি থেকে আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়া এবং ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দারা।
এছাড়া মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাফরুল, রামপুরা, বাড্ডা এবং পুরান ঢাকার সূত্রাপুর ও রায় সাহেব বাজার এলাকাতেও গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। অনেক এলাকায় ভোররাত ছাড়া সারা দিন চুলা জ্বলছে না।
শুক্রবার ছুটির দিনেও সংকট না কাটায় গৃহিণীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। মোহাম্মদপুরের এক বাসিন্দা জানান, সকালে একটু গ্যাস এলেও ১০ মিনিটের মধ্যে তা উধাও হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা বা বাইরে থেকে কেনা খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
শুক্রবার তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তায় জানানো হয়েছে, পাইপলাইন থেকে পানি অপসারণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন