চীনের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সেরা পর্যায়ে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সেরা পর্যায়ে

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ইয়াও ওয়েন বলেন, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়ন, বাণিজ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা দিতে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে চীন প্রস্তুত। তাঁর মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির প্রসঙ্গ তুলে ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা সই হয়েছে। এর ফলে আমের পাশাপাশি জাতীয় ফল কাঁঠালও চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর-সংক্রান্ত উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে দ্রুতগতির রেল প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে চীন। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুতগতির ট্রেন চালুর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ জোরদার করা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে চীন মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।

এম জি