আসিফ নজরুল

সন্ত্রাসীদের জামিনের দায় বিচারকদের

বিশেষ প্রতিবেদক  প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০২:১০ পিএম
সন্ত্রাসীদের জামিনের দায় বিচারকদের

বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ও বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আদালত থেকে জামিন পাওয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। এই সমালোচনার তীরের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়কে। 

তবে শনিবার এক সংলাপে অংশ নিয়ে এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আসামিদের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের, সেখানে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো হাত নেই।

বিচারকদের দায় ও অপসারণ প্রসঙ্গ

ড. আসিফ নজরুল তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসীর জামিন হয়েছে, এর পূর্ণ দায় বিচারপতিদের। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ছিল এই ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণ করা। কেন তিনি তা করছেন না?

তিনি আরও যোগ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগের নানা অসংগতি নিয়ে মানুষ সোচ্চার ছিল, কিন্তু এখন প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়ে মানুষ কেন প্রশ্ন তুলছে না, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

ইতিহাস টেনে আইন উপদেষ্টার যুক্তি

আসামিদের জামিন হওয়ার জন্য আইনমন্ত্রী বা উপদেষ্টাকে দোষারোপ করার প্রবণতাকে অযৌক্তিক দাবি করে তিনি অতীতের উদাহরণ টানেন। আসিফ নজরুল প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় বাতিল করেছিলেন, তখন কি তখনকার আইনমন্ত্রীকে দোষ দেওয়া হয়েছিল? বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য কি তৎকালীন আইনমন্ত্রী দায়ী ছিলেন? তাহলে এখন কেন আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এমন বিষয়ে আমাকে গালি দেওয়া হচ্ছে?

সমালোচনার নেপথ্যে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য

ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে।

মনিটাইজেশন ও ব্যবসা: তিনি রসিকতা করে বলেন, আসিফ নজরুল নামে একটা গালি দিলে ভিউ ভালো হয়, ইউটিউব বা ফেসবুকে ব্যবসা ভালো হয়, মনিটাইজেশন থেকে টাকা আসে।
রাজনৈতিক এজেন্ডা: তাকে দুর্বল করার মাধ্যমে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় বলে তিনি দাবি করেন।

পদত্যাগের ইচ্ছা ও প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ

সংলাপে ড. আসিফ নজরুল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও অহেতুক আক্রমণের শিকার হয়ে তিনিসহ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত তিন-চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, সারাক্ষণ গালাগালি, অশ্লীল আচরণ এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার মধ্যে এই অবর্ণনীয় জীবন কে উপভোগ করতে চায়? কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) আমাদের বলেছেন, আমরা একটি দল। কেউ পদত্যাগ করলে মনোবল নষ্ট হবে। তাই আমরা শুধু কাজ করে যাচ্ছি।

আইন উপদেষ্টার এই বক্তব্য বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে এক ধরনের চাপা উত্তেজনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতির প্রতি তার সরাসরি প্রশ্ন বিচার বিভাগের সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় নিতে পারে। আসিফ নজরুল স্পষ্ট করেছেন যে, সমালোচনায় দমে না গিয়ে তিনি এবং তার সরকার দেশের স্বার্থে কাজ করে যাবেন এবং সময়মতো সবকিছুর জবাব দেবেন।

এএন