প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে চিকিৎসা নির্দেশনা হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে চিকিৎসা নির্দেশনা হস্তান্তর

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি হওয়া লাম্পি স্কিন ডিজিজের (এলএসডি) সম্পূর্ণ চিকিৎসা নির্দেশনা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল। এরপর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের প্রফেসর ড. রোখসানা পারভীন তার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি প্রকল্পের লক্ষ্য ও অর্জন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি এলএসডি প্রতিকার ও প্রতিরোধে গৃহীত কৌশলসমূহ তুলে ধরেন।

বিশেষ করে "ইনভেস্টিগেশন অব লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) অ্যাফেক্টেড হার্ডস অ্যান্ড ফরম্যুলেশনস অব কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজিস" শিরোনামের প্রকল্প থেকে তৈরি হওয়া চিকিৎসা নির্দেশনার বিভিন্ন দিক তিনি ব্যাখ্যা করেন। পরে একটি উন্মুক্ত আলোচনা সেশনে তিনি উপস্থিত প্রাণি চিকিৎসকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মকবুল হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামসুন্নাহার আহম্মদ এবং পরিচালক (উৎপাদন) ড. এ বি এম খালেকুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগটি ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের দেশে বিদ্যমান। গবেষণার দিক থেকে আমরা আগে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই রোগটি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে আছি কারণ সময়ের সাথে ভাইরাসটি তার ধরন পরিবর্তন করছে এবং এর ফলে মৃত্যুহারও বাড়ছে। বর্তমানে মহাখালীর প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এলআরআই) টিকা তৈরির মাধ্যমে এটি প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, তবে বর্তমান উৎপাদন চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

তিনি আরও বলেন, এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুকে প্রতিকার করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিকার করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন ছিল, যা আজ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা হাতে পেলাম। এই নতুন নির্দেশনাটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী নির্দেশনাকে আরও পরিপূর্ণ ও কার্যকর করবে।

ইএইচ