সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রউফ যমুনা সেতু এবং উত্তরবঙ্গের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত ‘সাসেক-২’ (এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ) প্রকল্পের নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার তিনি যমুনা সেতু এলাকা এবং সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধে চলমান নদীশাসন কাজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক এবং সাইট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সচিব যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে চলমান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং সেতুর ‘স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’ পর্যবেক্ষণ করেন।
যমুনা সেতুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং যানচলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে, টোল প্লাজায় যাত্রী ভোগান্তি লাঘবে আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন সিস্টেম (ইটিসি) আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এরপর তিনি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়নাধীন ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২’-এর নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সেতু সচিব বলেন, "সাসেক-২ প্রকল্পটি শুধু একটি সড়ক নয়, এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। দেশের উত্তরবঙ্গের সাথে রাজধানী ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে এবং যাতায়াত সহজতর করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তনে বদ্ধপরিকর। যমুনা সেতুর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এই মহাসড়কটি এশীয় হাইওয়ের সাথে যুক্ত হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সচিব প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন দফা বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রথমত, কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে যাতে প্রকল্পের সুফল দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।
দ্বিতীয়ত, নির্মাণ এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সংকেত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনস্বার্থে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর নির্দেশ দেন তিনি।
তৃতীয়ত, নির্মাণ চলাকালীন মহাসড়কে যেন যানজট বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পর্যাপ্ত ডাইভারশন ও রোড সাইন স্থাপন করতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশের সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন