জ্বালানি উপদেষ্টা

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নির্বাচিত সরকারের হাতে, দায়িত্ব নিচ্ছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
পে-স্কেল বাস্তবায়ন নির্বাচিত সরকারের হাতে, দায়িত্ব নিচ্ছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

সরকারি চাকুরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আজ পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ভার এই সরকার নেবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

বিগত কয়েক মাস ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন চলছিল। এরই প্রেক্ষিতে সরকার একটি পে-কমিশন গঠন করেছিল। আজ উপদেষ্টা জানান, পে-কমিশন তাদের কাজ শেষ করে কেবল প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, "সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে গঠিত পে-কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে না। আমরা চাইছি না কোনো বড় ধরণের আর্থিক সংস্কারের দায় পরবর্তী সরকারের ওপর চাপিয়ে দিতে।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রস্তাবিত এই পে-স্কেল পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো বাড়তি চাপের কারণ হবে না। "নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে চাইলে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে, আবার চাইলে বাতিলও করতে পারবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের থাকবে।"

বেতন বৃদ্ধি না করে কেন তবে কমিশন গঠন করা হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। নির্বাচিত সরকার যাতে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সেই তীব্র ক্ষোভের মুখে না পড়ে, সেজন্যই আমরা এই কমিশন গঠন করে একটি সুপারিশমালা তৈরি করে রাখলাম। এটি মূলত একটি প্রস্তুতির অংশ।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচার ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের জন্য সরকার কিছু বিশেষ বরাদ্দের কথা ভাবছে বলেও তিনি এসময় ইঙ্গিত দেন।

বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে দেশের প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে সামরিক সরঞ্জামের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তবে এখন এই খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, "আমরা এখন দেশেই সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করতে চাই। সেজন্য চট্টগ্রামের একটি নির্ধারিত জমিকে 'ডিফেন্স ইকোনমিক জোন' হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।"

আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজকের সভায় বেশ কিছু জরুরি কেনাকাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

সয়াবিন তেল: ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

মসুর ডাল: রমজানের চাহিদা মেটাতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হবে।

সার: কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে র‌্যাবের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাবও এই বৈঠকে অনুমোদন পায়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্ত কৌশলী। কারণ পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা মানেই বাজেটে বিশাল এক অংকের বরাদ্দ রাখা, যা দেশের বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারতো। বেতন বাড়ানোর দায় এড়িয়ে পরবর্তী সরকারের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়াকে অনেকেই 'রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য' রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

তবে এই সিদ্ধান্তে সরকারি চাকুরিজীবীদের একাংশের মধ্যে হতাশা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা আসন্ন পে-স্কেলকে মুদ্রাস্ফীতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপায় হিসেবে দেখছিলেন।

এএন