দ্বৈত ভোট পর্যবেক্ষণে বড় বহর পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ ও ইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
দ্বৈত ভোট পর্যবেক্ষণে বড় বহর পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ ও ইইউ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ সংক্রান্ত গণভোট পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কমনওয়েলথ বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, এরই মধ্যে দুই প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছেন এবং কেউ কেউ মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন।

কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল শার্লি বচওয়ে চলতি মাসের শুরুতেই লন্ডনে এই শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দলটির নেতৃত্বে থাকছেন আফ্রিকার প্রভাবশালী নেতা এবং ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো।

এই দলে রাজনীতি, আইন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম এবং লিঙ্গসমতা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মালদ্বীপের সাবেক উপমন্ত্রী থেকে শুরু করে সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটররা এই মিশনে থাকছেন। এছাড়া কানাডা, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই দলে সক্রিয় থাকবেন। লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বে একটি কারিগরি সচিবালয় দল তাদের সহায়তা করবে।

ম্যান্ডেট: কমনওয়েলথ জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন ও গণভোট স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এবার সবচেয়ে বড় চমক নিয়ে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ এবং এর সহযোগী দেশসমূহ (নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা) থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে অবস্থান করবেন।

মিশনের নেতৃত্ব: ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। তার সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও সাতজন প্রভাবশালী সদস্য ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে সফর করবেন।

কোর টিম: গত ২৯ ডিসেম্বর থেকেই ১১ জন বিশ্লেষকের একটি কোর টিম ঢাকায় কাজ করছে।

দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক: গত ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের ৮টি প্রশাসনিক বিভাগে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক: নির্বাচনের ঠিক আগে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠ পর্যায়ে যোগ দেবেন।

ইইউ নিশ্চিত করেছে যে, তাদের পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক আচরণবিধি মেনে চলবেন এবং কোনোভাবেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবেন না।

ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, যেখানে দেশের মোট ৩০০টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই সঙ্গে জুলাই সংস্কার সনদ বিষয়ক একটি বিশেষ গণভোটও আয়োজন করা হচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন। পাশাপাশি কমনওয়েলথের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো।

সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মরশেদ এই বিশাল আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসছে। এত বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষকের আগ্রহ প্রমাণ করে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর বিশ্ববাসীর আস্থা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং লজিস্টিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। একই দিনে গণভোট আয়োজন করায় নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ‘অফিসিয়াল’ পর্যবেক্ষক না পাঠালেও ইইউ ও কমনওয়েলথের এই বড় অংশগ্রহণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এএন