কারাগারেও বাজছে ভোটের বাদ্য 

বাংলাদেশে প্রথমবার ডাকযোগে ভোট দিচ্ছেন বন্দিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
বাংলাদেশে প্রথমবার ডাকযোগে ভোট দিচ্ছেন বন্দিরা

বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে কারাবন্দিদের ডাকযোগে বা পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা অনুযায়ী, বন্দিরা আজ থেকে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

অতীতে কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও এবারই প্রথম নির্বাচন কমিশন বন্দিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ইসির নির্দেশনা পাওয়ার পর দেশের সকল কারাগার কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আজ দুপুর থেকে বন্দিদের হাতে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

ডাকযোগে ভোট দিলেও তা সরাসরি গণনা করা হবে না; এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট আইনি শর্ত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্দিদের ভোটদান সম্পন্ন করে ব্যালট পাঠানোর শেষ সময় ৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানোর শেষ সময় হলো ভোটের দিন, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা। নির্ধারিত সময়ের পর পৌঁছানো কোনো ব্যালট বাতিলযোগ্য হবে এবং তা গণনায় ধরা হবে না।

অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালটের নকশায় এবার কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভোটারদের সুবিধার্থে ব্যালটে শুধু নির্বাচনি প্রতীক নয়, বরং প্রার্থীর নামও উল্লেখ থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার নাগরিক পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। এই মোট সংখ্যার প্রায় অর্ধেক ভোটার দেশের ভেতরে অবস্থান করছেন, যার মধ্যে কারাবন্দি, কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও অন্যান্য অন্তর্ভুক্ত। বাকি অর্ধেক প্রবাসী ভোটার হিসেবে বিদেশ থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে হতে যাওয়া ‘গণভোট’ নিয়ে দেশজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঐদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে। কারাবন্দিদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র আরও ফুটে উঠবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ কেবল তাদের সাংবিধানিক অধিকারই নিশ্চিত করছে না, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি ইঙ্গিত। পোস্টাল ব্যালটের এই সফল ব্যবহার প্রবাসীদের ভোটদানের ক্ষেত্রেও একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এএন