শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে চলমান কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষ চলাকালে রাজধানীর রমনা এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৬ জন সাংবাদিক আহত হন।
আহতরা হলেন- দৈনিক আমার সংবাদের তামিম, কালের কণ্ঠের রায়হান, যুগান্তরের আবু সালেহ মুসা, আরটিএনএন’র আবু বকর সিদ্দিক, বর্ণজয় নিউজের সাব্বির আহমেদ এবং স্পষ্টবাদী নিউজ হৃদয় ও মাইটিভির মো. জাকিরুল ইসলাম।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে মারধর এবং ভিডিও ধারণকারী পথচারীদেরও পেটানোর অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হয় পুলিশ।
যুগান্তরের সাংবাদিক আবু সালেহ মুসা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সংবাদ সংগ্রহে কেন বাধা দেওয়া হলো? আমি লাইভে থাকা অবস্থায় আমার ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। কাজ করতে না দিলে আমাদের আলাদা করে একসাইডে দাড় করায়া রাখাতো, কিন্তু হামলা কেন করলো?”
আরটিএনএন’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “ছাত্রজনতাকে সরাতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে পেটানো হচ্ছিল। আমি প্রতিবাদ করায় কয়েকজন পুলিশ আমাকে টেনে নিয়ে পিটিয়েছে। প্রমাণ লুকাতেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।”
মাইটিভির সাংবাদিক ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। পুলিশ অনৈতিকভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান রাত সোয়া ৯টার দিকে বলেন, “এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।”
এর আগে, যমুনায় প্রবেশের চেষ্টাকালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন