বাণিজ্য উপদেষ্টা

মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের লক্ষ্যে ২৫টি বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের লক্ষ্যে ২৫টি বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনের সাথে ঢাকার একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে আনা এবং দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য 'শূন্য শুল্ক' বা শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা। আর এই দরকষাকষিতে তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের মেগা প্রকল্প।

উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, বরং একটি বড় কূটনৈতিক কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য শুল্ক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে এই ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনানুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এর প্রথম ১৪টি উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই ক্রয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ বাড়বে, যা পোশাক খাতের ওপর শুল্ক কমানোর দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো তাড়াহুড়োর বিষয় নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। আমরা চাই পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যখন দায়িত্ব নেবে, তারা যেন উন্নত দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য নিয়ে কোনো সংকটে না পড়ে। দেশের সার্বিক স্বার্থেই নির্বাচনের আগে এই চুক্তির পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা গত এক বছরে বিমানের অর্জিত সাফল্যের একটি খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে বিমানের টিকিটের দাম গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে।

সবচেয়ে বড় চমক ছিল সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য। শেখ বশিরউদ্দিন ঘোষণা করেন, আগামী হজ মৌসুমে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা মাত্র ২০ হাজার টাকায় দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন।

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে বিমান তার যাত্রীসেবার মান উন্নত করেছে এবং ব্যয় কমানোর মাধ্যমে এই সুলভ মূল্যে টিকিট নিশ্চিত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বোয়িং কেনার এই প্রস্তাবটি একটি 'উইন-উইন' পরিস্থিতি তৈরি করবে। একদিকে বিমানের বহর শক্তিশালী ও আধুনিক হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বড় অংকের বাণিজ্যিক লেনদেনের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড় পাওয়া সহজ হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টার আজকের এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাসিতে দরকষাকষির সক্ষমতা অর্জন করছে। বিশাল এই বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি কেবল বিমান বাংলাদেশের ভাগ্যই বদলাবে না, বরং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাক শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এএন