দেশের লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অস্থিরতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। বন্দরে চলমান অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটকে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানিয়েছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করে কোনো দাবি আদায় করতে দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে আপসহীন অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আজ রোববার সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যারা বন্দর অচল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘হার্ডলাইনে’ রয়েছে।
উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে দেশের অর্থনীতির মূল প্রবেশদ্বারকে বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে আন্দোলনের সময়কাল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সামনে পবিত্র রমজান মাস। এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাস হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে বন্দর জিম্মি করার চেষ্টা করছে। আমরা এটি সফল হতে দেব না।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবির অধিকাংশই অযৌক্তিক এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী। তাই এসব দাবি মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বন্দর ধর্মঘটের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচিত ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য দুবাই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড আরও সময় চেয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই তাড়াহুড়ো না করে এই চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নির্বাচনের পরেও অব্যাহত রাখা হবে। সুতরাং এখনই আন্দোলন করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
ধর্মঘট ডাকার পর বন্দরের কার্যক্রম বিঘ্নিত করার অভিযোগে ইতিমধ্যে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন যে, নাশকতা বা কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যারাই অপারেশনাল কার্যক্রমে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ' তাদের ৪ দফা দাবিতে অনড় থাকলেও উপদেষ্টার বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, সরকার কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানের আগে চিনি, ভোজ্যতেল এবং ডালের মতো পণ্যগুলো দ্রুত খালাস করা না হলে বাজারে দামের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। নৌপরিবহন উপদেষ্টার আজকের এই 'হার্ডলাইন' অবস্থানের লক্ষ্য হলো সেই বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।
চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির প্রতীক। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের আজকের বার্তা এটিই প্রমাণ করে যে, বৃহত্তর জনস্বার্থে সরকার ক্ষুদ্র কোনো গোষ্ঠীর অযৌক্তিক দাবির কাছে মাথা নত করবে না। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পর আন্দোলনকারীরা পিছু হটে কি না অথবা বন্দর কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন