অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের দু-একজন সদস্য বাদে প্রায় সকল উপদেষ্টা ইতিমধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের শেষ সময়ের নানা অর্জন, আসন্ন নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
শফিকুল আলম জানান, উপদেষ্টাদের সম্পদের তথ্য শিগগিরই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের প্রায় সব উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। বাকি দু-একজন সদস্য তথ্য দিলেই তা প্রকাশ করা হবে। স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরকার শুরু থেকেই অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল এবং সেই পথেই হাঁটছে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই উপদেষ্টাদের সম্পদের তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কথা বলেন উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি জানান, মোট ৩৩০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২১১ জন পর্যবেক্ষক আসছেন। এ ছাড়া ওআইসি, কমনওয়েলথ এবং এশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক নেটওয়ার্ক বা আনফ্রেলসহ ১৬টি দেশের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে উপস্থিত থাকবেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে। যদিও সুনির্দিষ্ট ভোটের হার নিয়ে এখনই মন্তব্য করা সম্ভব নয়, তবে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উদগ্রীব হয়ে আছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত নভেম্বর মাস থেকেই আওয়ামী লীগ নানাভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে, কিন্তু বাস্তবে মাঠে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা এখন কেবল অনলাইনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং রাজপথের মিছিলেও তাদের দেখা মিলছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রেস সচিব দাবি করেন, গত ১৮ মাস দেশের গণমাধ্যম ছিল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণমুক্ত। তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া গণমাধ্যমগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং কোনো মিডিয়া হাউস যেন বন্ধ না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। সাংবাদিকরা যেকোনো সংবাদ নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পেরেছেন এবং গণমাধ্যম খাতে আমূল সংস্কার করা হয়েছে।
উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ছিল একটি টেকসই ব্যবস্থা তৈরি করা, কাউকে কেবল প্রশংসাপত্র দেওয়া নয়। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে কেবল নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা সরকারের লক্ষ্য ছিল না, বরং একটি গুণগত পরিবর্তন আনাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং একই দিনে দেশের শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন