চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ

নতুন সূর্যোদয়ের পথে বাংলাদেশ, সোমবার শপথের সম্ভাবনা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
নতুন সূর্যোদয়ের পথে বাংলাদেশ, সোমবার শপথের সম্ভাবনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই চূড়ান্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতার মসনদে ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের নাম ও পরিচয় সংবলিত আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন ইসি। শুক্রবার দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেটটি জারি করা হয়। এর মাধ্যমে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ এবং পরবর্তী সরকার গঠনের পথে থাকা আইনি ও সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গেজেটে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বা জুলাই চার্টার নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলের গেজেটও একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত গেজেট ও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

বিএনপি ও মিত্র জোট মোট ২১২টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বিজেপি ১টি এবং গণসংহতি আন্দোলন ১টি আসন লাভ করেছে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন পেয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে একটি আসনে জয়ী হয়েছে এবং ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসনের গেজেট পরে প্রকাশ করা হবে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের মানুষ বিপুলভাবে হ্যাঁ জয়যুক্ত করেছেন।

গেজেটের তথ্যমতে, ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন না ভোট দিয়েছেন। প্রদত্ত ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ। এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানোর মতো মৌলিক সংস্কারগুলোর পথ উন্মুক্ত হলো।

গেজেট প্রকাশের পর পরবর্তী প্রধান ধাপ হলো সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হতে পারে।

বর্তমানে দ্বাদশ সংসদের স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ পড়াবেন বলে সম্ভাবনা বেশি। যেদিন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, সেদিনই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত দেড় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নির্বিঘ্ন পরিবেশ এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে দাবি করেছে ইসি।

রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে ও চায়ের আড্ডায় এখন কেবলই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ আর আগামীর সংস্কারের আলোচনা। প্রায় দুই যুগ পর বিএনপি আবার এককভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বইছে খুশির আমেজ।

জেএইচআর