কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা,

আলোচনায় খন্দকার মোশাররফ ও নজরুল ইসলাম খান

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
আলোচনায় খন্দকার মোশাররফ ও নজরুল ইসলাম খান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর এখন বঙ্গভবনের পরবর্তী উত্তরাধিকার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা। আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপি দীর্ঘ দুই দশক পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে।

সরকার গঠনের এই চূড়ান্ত লগ্নে এখন সবার দৃষ্টি একটি প্রশ্নের দিকে, কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক গুঞ্জনে বেশ কিছু হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এখন পর্যন্ত দুজনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং অভিজ্ঞ শ্রমিক নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণও রয়েছে। উনআশি বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ কুমিল্লা ১ আসন থেকে এবারসহ মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর অগাধ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডক্টর মোশাররফ ১৯৯১ সালে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং ২০০১ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

দলের ভেতরে তাঁর একটি স্বচ্ছ ও মার্জিত ভাবমূর্তি রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতির মতো একটি অলঙ্কারিক ও সম্মানজনক পদে তাঁর মতো একজন সজ্জন ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিকে বসিয়ে বিএনপি একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চায়।

রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে অপর যে নামটি শোনা যাচ্ছে, তিনি হলেন নজরুল ইসলাম খান। এবারের নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করা এই নেতা দলের দুর্দিনের অন্যতম কান্ডারি।

তবে দলের ভেতরের একটি শক্তিশালী সূত্র জানিয়েছে, নজরুল ইসলাম খানকে রাষ্ট্রপতি করার চেয়েও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার প্রস্তাব বেশি জোরালো। কারণ শ্রমিক রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি ও দল সামলানোর দক্ষতা অসাধারণ।

উল্লেখ্য, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে তিনি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও জোরালো বক্তব্য দিয়ে নিজের নেতৃত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও তিনি পদে থাকছেন না, এটি এখন অনেকটাই নিশ্চিত।

গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। সে সময় তিনি কিছুটা ক্ষোভের সাথে বলেছিলেন, আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতির ছবি বিভিন্ন দপ্তর থেকে সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত বোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপি সরকার গঠন করলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এমন আলোচনা নতুন নয়। ২০২৩ সালে বগুড়ায় এক সমাবেশে বিএনপি নেতা জি এম সিরাজ ঘোষণা করেছিলেন, তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী আর ডক্টর মোশাররফ হবেন রাষ্ট্রপতি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ঘোষণার বাস্তবায়নই এখন সময়ের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ডক্টর মোশাররফ বর্তমানে দলের কার্যক্রমে কিছুটা আড়ালে থাকছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিজেকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতেই তিনি এই কৌশল অবলম্বন করছেন।

যাতে রাষ্ট্রপতির পদের মতো একটি সর্বজনীন পদে আসীন হতে কোনো আইনি বা রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি না হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রিসভার গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সংসদে মনোনীত করবে এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশের আগামীর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে একজন অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত ব্যক্তিত্বকে চায় জনতা। ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁকে এই পদের জন্য যোগ্যতম করে তুলেছে। তবে রাজনীতির দাবাখেলায় শেষ মুহূর্তে কোনো নতুন নাম চমক হিসেবে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জেএইচআর