প্রধান উপদেষ্টা

হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাঁদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। একই সাথে যারা পরাজিত হয়েছেন তাঁদেরও অভিনন্দন জানাই। হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিজয়ীরা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন, আবার যারা জিততে পারেননি তাঁদের ওপরও অর্ধেক ভোটার আস্থা রেখেছেন। এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে।

সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। 

তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছেন, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে উপস্থিত হয়েছি। তিনি ৫ আগস্টের সেই আনন্দ ও মুক্তির দিনের কথা স্মরণ করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশ মুক্ত হওয়ার পর অচল রাষ্ট্রকে সচল করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮ মাস পর এখন তাঁর যাওয়ার সময় হয়েছে।

বিদায়লগ্নে তিনি অতীতের প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে প্রশাসন সচল করা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। দেড় যুগ পর ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচন এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে দেশের সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই মাসে মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল। সেই সংকটময় সময়ে সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে তাঁকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা সেই অঙ্গীকার রক্ষার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন। সফলতার বিচারের ভার তিনি জনগণের ওপর ছেড়ে দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখেছি। রাষ্ট্রের ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে হাত দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে না পারে। সর্বোপরি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।

পরিশেষে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা। এটি একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম বলে তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন।

জেএইচআর