মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
একই রাতে পৃথক গেজেটের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। গেজেট অনুযায়ী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। ফলে প্রশাসনিক ও নীতিগত সব দায়িত্ব এখন নবগঠিত মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত থাকবে।
নতুন মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় দায়িত্ব পেয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন টেকনোক্র্যাট হিসেবে মো. আমিন উর রশিদ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনকে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আওয়াল মিন্টু। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মিজানুর রহমান মিনুকে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন নিতাই রায় চৌধুরী।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন খন্দকার আব্দুল মোকতাদির। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন জহির উদ্দিন স্বপন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আফরোজা খানম রিতা। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আসাদুল হাবিব বুলুকে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন জাকারিয়া তাহের। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দীপেন দেওয়ান। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এম রশিদুল জামান মিল্লাত (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়), মো. শরিফুল আলম (বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়), শ্যামা ওবায়েদ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়)।
এছাড়া ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ভূমি মন্ত্রণালয়), ফরহাদ হোসেন আজাদ (পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়), আমিনুল হক (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়), মীর হেলাল উদ্দীন (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়), হাবিবুর রশিদ এবং মো. রাজিব আহসান (সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়) দায়িত্ব পেয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আব্দুল বারী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন মীর শাহে আলম। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ইশরাক হোসেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফারজানা শারমিন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন মো. নুরুল হক নুর।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন এম ইকবাল হোসেইন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এম এ মুহিত।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ববি হাজ্জাজ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু হলো। সরকারের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এখন এই মন্ত্রিসভার হাতেই পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে বলে গণ্য করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ পরিসরের এ মন্ত্রিসভা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন গতি আনবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন