সড়কে চাঁদাবাজি রুখতে কঠোর বার্তা পানি সম্পদ মন্ত্রীর

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
সড়কে চাঁদাবাজি রুখতে কঠোর বার্তা পানি সম্পদ মন্ত্রীর

সারাদেশের সড়কপথকে চাঁদাবাজমুক্ত করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনিযুক্ত পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। 

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এসে মন্ত্রী জেলার দীর্ঘদিনের অভিশাপ জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।

সারাদেশে বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। 

যেখানেই অনিয়ম দেখা যাবে, সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক ও জনপথ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে সড়কপথকে নিরাপদ করার ওপর তিনি জোর দেন।

লক্ষ্মীপুর জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি হয়ে পড়া কয়েক লাখ মানুষের কষ্টের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী জানান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের জন্য একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরের জলাবদ্ধতা একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা ভুলুয়া নদী খনন এবং রহমতখালী খালের পুনঃখনন প্রকল্প গ্রহণ করছি। এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে লক্ষ্মীপুরের কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং মানুষের কষ্টের অবসান হবে।

সরকারের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ১৮০ দিনের একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বা বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রম। সারাদেশে ঝিমিয়ে পড়া খাল খনন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে। লক্ষ্মীপুরের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো এই ১৮০ দিনের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 

এছাড়া নদী ভাঙন রোধে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং রহমতখালী খালের পাড়ে যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা বৈজ্ঞানিক ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।

তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে সকালে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা গাফিলতি না হয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে জনভোগান্তি কমানোর জন্য তিনি কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন।

পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া মেঘনা তীরের ভাঙন রোধে এবং দেশব্যাপী খাল খননে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন।

দীর্ঘদিন পর লক্ষ্মীপুর থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। মেঘনা পাড়ের জেলেরা এবং নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা মন্ত্রীর এই ঘোষণাকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন। 

বিশেষ করে ভুলুয়া নদী খনন হলে জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকার কেবল পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

জেএইচআর