সঠিক পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি পণ্যকে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) ক্যাডারের নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নবীন কর্মকর্তারা মাঠমুখী হয়ে কাজ করলে কৃষি সম্ভাবনা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এর পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, অনেক দেশ বছরে দীর্ঘ সময় তুষারাচ্ছন্ন থেকেও কৃষিকে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের অনুকূল জলবায়ু ও উর্বর মাটির কারণে সারা বছর ফসল উৎপাদন সম্ভব হলেও প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
পরিবেশবান্ধব কৃষির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গরুর গোবর সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও প্রয়োগ করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো সম্ভব। এতে পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং মাটির উর্বরতা সংরক্ষিত হবে। আমরা বিপুল অর্থ খরচ করে রাসায়নিক সার আমদানি করছি, অথচ প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারে মাটি ও পরিবেশ দুটোই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা সরাসরি মানুষের সেবা প্রদানের দায়িত্বে আছেন। সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকার ফার্মাস কার্ড চালুসহ গবাদি পশু পালনকারীদের জন্য সহজ ঋণ ও বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে তিনি জানান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিচালক ড. মো. বয়জার রহমান। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন