মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও ধীরে ধীরে কিছু গন্তব্যে বিমান চলাচল আবার শুরু হচ্ছে। বিশেষ করে ওমান ও সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো এখন নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিচালিত অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় একাধিক এয়ারলাইন্স।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত আট দিনে মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ আরও ২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
৭ মার্চ বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৪টি ফ্লাইট।
তবে সংকটের মধ্যেও সীমিত পরিসরে কিছু ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ওমানের মাসকাট, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী মোট ২১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে এবং হচ্ছে।
এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি ৬টি, ১ মার্চ ২০টি, ২ মার্চ ১৮টি, ৩ মার্চ ২২টি, ৪ মার্চ ৩৫টি, ৫ মার্চ ৩৮টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ রয়েছে ৪১টি ফ্লাইট।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে ধীরে ধীরে কয়েকটি রুটে ফ্লাইট চালু হচ্ছে। বিশেষ করে ওমান ও সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো নিয়মিত চলছে এবং ধাপে ধাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু রুটেও ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইট সূচি ও পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন