বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে সাজ সাজ রব।
এই অধিবেশনকে সামনে রেখে বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারি দলের সংসদীয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সংসদের কার্যকারিতা ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
চিফ হুইপ দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘এবারের সংসদ হবে জনগণের কাঙ্ক্ষিত এবং আস্থার প্রতিফলন। আমরা একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং প্রাণবন্ত সংসদ উপহার দিতে চাই, যেখানে জনগণের প্রতিটি দাবি যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে।’
বুধবারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রী চান সংসদ হবে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনসেবার প্রধান কেন্দ্র। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা সংসদ নেতার ওপর অর্পণ করেছে। নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সংসদ নেতা যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাঁর নামই প্রস্তাব করবেন এবং সংসদীয় দল তাতে পূর্ণ সমর্থন জানাবে।
আগামীকালকের অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া নিয়ে চিফ হুইপ একটি বিশেষ কারিগরি ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান, অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসনটি প্রথাগতভাবে খালি থাকবে। কার্যক্রম শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভার সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করবেন। সংসদ সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানালে ওই জ্যেষ্ঠ সদস্য সাময়িকভাবে স্পিকারের আসনে বসে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন। এরপরই সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং তাঁরা শপথ গ্রহণ করবেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, “সংসদকে প্রাণবন্ত করতে শক্তিশালী বিরোধী দলের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, বিরোধী দল সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকারের লক্ষ্য কেবল সংখ্যাধিক্যের জোরে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, বরং যুক্তিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করা। কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধী দলের ইতিবাচক সাড়া এখন সময়ের দাবি।
চিফ হুইপের বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার কথা। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, নতুন এই সংসদ শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে এবং জুলাই সনদের অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা বিভিন্ন সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো আইনি রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সংসদ ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।
‘আগামীকাল বেলা ১১টায় নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদের অভিভাবক কে হচ্ছেন। চিফ হুইপের এই ‘জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংসদ’ গড়ার ঘোষণা এবং বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী দল এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথের লড়াইয়ের বদলে সংসদীয় বিতর্কে কতটা সক্রিয় হয়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন