পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হবে ‘কৃষক কার্ড’। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। 

রোববার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই নীতিনির্ধারণী সভায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এছাড়াও কৃষি বিভাগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সমন্বিত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এই ‘কৃষক কার্ড’ কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং এটি হবে কৃষকদের জন্য একটি ডিজিটাল অর্থনৈতিক টুল। এর প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সার, বীজ ও সেচের ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া।

প্রকৃত কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা, যাতে প্রকৃত উৎপাদনকারী ব্যতীত অন্য কেউ সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে না পারে। তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের দিকনির্দেশনায় এই কার্ডটিকে একটি স্মার্ট প্রযুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে, যা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জামানতবিহীন এবং নামমাত্র সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই বিশাল প্রকল্পের শুভ সূচনার জন্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী চান বাংলা নববর্ষের শুরুতেই কৃষকদের হাতে এই উপহার পৌঁছে দিতে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর কৃষক কার্ডের আর্থিক জোগান এবং এর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করেন। অন্যদিকে, মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে কীভাবে এই কার্ড মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা হবে, তার একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

২০২৬ সালের এই ‘কৃষক কার্ড’ প্রকল্পটিকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি পহেলা বৈশাখে সফলভাবে এই কর্মসূচি শুরু হয়, তবে তা বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

এএন