লাল সবুজের পতাকায় সেজেছে দেশ, চারদিকে ভেসে আসছে দেশাত্মবোধক গানের সুর। আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে গৌরব ও আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শুরু হয়েছিল মুক্তির সংগ্রাম, যার মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
চেতনায় স্বাধীনতার অঙ্গীকার আর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় দিবসটি পালন করছে পুরো জাতি। সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরছেন। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিয়ে আসেন। তরুণদের মাঝেও দিবসটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। দিবসটি নিয়ে কথা হয় কয়েকজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে।
মিরপুর থেকে আসা রাশেদ আহমেদ বলেন, এই দিনটি আমাদের গর্বের দিন। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর এখানে আসি।
বনানীর বাসিন্দা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, তাহলেই দেশপ্রেম আরও শক্ত হবে।
শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ধারণ করে দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হবে আমাদের অঙ্গীকার।
আরেক দর্শনার্থী মো. কামাল হোসেন জানান, দেশ স্বাধীন হয়েছে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। আমাদের সবার উচিত দেশের উন্নয়নে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করা।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, দোয়া মাহফিল এবং অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচিও দেখা গেছে।
দিনটির তাৎপর্য নিয়ে সচেতন মহল মনে করেন, স্বাধীনতার চেতনা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে তা দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।
মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি উদযাপনের দিন নয়, এটি আত্মত্যাগ, সাহস এবং দেশপ্রেমের এক অবিনশ্বর প্রেরণার নাম। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একটি উন্নত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করতে দেখা গেছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় দেশকে ভালোবাসা মানেই নিজের দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন