দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই তাপমাত্রার তীব্রতা বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল অন্তত ২৭ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। রেকর্ড অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, রাজশাহীতে ৩৯.৫ ডিগ্রি, আর রাজধানী ঢাকায় ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এপ্রিল মাসে দেশে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির মাধ্যমে। শরীয়তপুরসহ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই বৃষ্টি হয়েছে, এবং রাজধানী সংলগ্ন এলাকায়ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার থেকে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি মাসে একাধিক বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থাকায় ২০২৪ সালের মতো দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে গরমের অনুভূতি বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় বেশি হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিন থেকে চারটি তীব্র এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, গরমের সময়সীমা কেবল এপ্রিলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাপপ্রবাহ দেশের মানুষের জীবনযাপনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন