ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সময়োপযোগী আইন কাঠামো গঠনের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল ২০২৬’।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আহমেদ আজম খান সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ২০২২ সালের বিদ্যমান আইনের সংশোধনের মাধ্যমে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক আইনি কাঠামো তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধকে আরও সুসংহতভাবে সংরক্ষণ এবং তা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তাৎক্ষণিক বিবেচনার প্রস্তাব করা হলে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। স্পিকারের আহ্বানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলটি গ্রহণ করা হয় এবং কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় দফাওয়ারি আলোচনা ছাড়াই ধারাগুলো একে একে অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিশেষভাবে ২ থেকে ১৪ নম্বর ধারা একসঙ্গে কণ্ঠভোটে পাস হয়। পরে প্রস্তাবনা ও সংক্ষিপ্ত শিরোনামসহ প্রথম ধারাটিও অনুমোদিত হয়। সবশেষে বিলটি পূর্ণাঙ্গভাবে পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদন করে।
সংশোধিত আইনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত কিছু রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং নেজামে ইসলামসহ আরও কয়েকটি পক্ষ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এসব সংগঠনকে ঐতিহাসিকভাবে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ এবং ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন