আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানান, আদানির দ্বিতীয় ইউনিট, এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের একটি ইউনিট উৎপাদনে ফিরলে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৯০০ মেগাওয়াট বাড়বে। এর ফলে চলমান লোডশেডিং কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুগ্ম সচিব জানান, বর্তমানে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ সারাদেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ১২ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা থাকলেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ৬ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
সরকার বর্তমানে কৃষি সেচ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহ ধান পাকার সময় হওয়ায় সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া জরুরি। শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের সুষম বণ্টন ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি সেচ মৌসুমে সংকট মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও কয়লা সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় অনেক কেন্দ্র চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছে না। এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে সম্প্রতি আদানিসহ বেশ কিছু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট ট্রিপ করায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা নেই বলে দাবি করেন যুগ্ম সচিব।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন