নিজেকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বললেন তাহের, স্বাগত জানালেন সালাহউদ্দিন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
নিজেকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বললেন তাহের, স্বাগত জানালেন সালাহউদ্দিন

জাতীয় সংসদে চলমান আলোচনায় এবার নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করার পরই তাকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যা সংসদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

‎​বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ডা. তাহের এই বক্তব্য প্রদান করেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, আজকে রাজাকার-আলবদরের কথা বলছেন। এটা এখন একটি মৃত ইস্যু। কেন বলছি আজকে আমরা এখানে যারা বসে আছি, আমরা তো কেউ রাজাকার বা আলবদর ছিলাম না।

‎​ডা. তাহের আরও বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে রয়েছি। যদি আপনি সেভাবে মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেন তবে আমিও একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা। মূলত তাঁর এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি আজকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম যে আমাদের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা তাকে আমি স্বাগতম জানাই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সম্মানিত ব্যক্তি, আমি সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করতে কসুর করি না মাননীয় স্পিকার।

‎​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করেন, সেটা আমার ভালো লাগল। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ওইপারে অর্থাৎ বিরোধীদলীয় আসনে আছেন। আজকে ইতিহাসের একটা ফয়সালা করে দেওয়ার মতো বিষয় আমি মনে রেখেছি। তিনি আরও বলেন, যদি সময় পাই তবে এটা নিয়ে আর কখনো বিতর্ক হওয়া ঠিক হবে না।

‎​মাননীয় স্পিকার, মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর যেহেতু ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখছি রাষ্ট্রপতিকে ইনস্টিটিউশনের প্রধান হিসেবে ধন্যবাদ এ জন্যই জানাই যে চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এ রাষ্ট্রে সরকারবিহীন অবস্থায় তিনি যে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন সে জন্য।

‎​সালাহউদ্দিন বলেন, সেই ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ ছিল না এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে অ্যাডভাইজারি রোলের বিপরীতে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। যার অনুবলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে কিন্তু কোনো সময়সীমা দেওয়া ছিল না; তারও একটা কারণ ছিল।

‎​তিনি আরও যোগ করেন, প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগ পদত্যাগ করেছিল। সেই রকম একটা অবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে এ রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সেজন্য তাঁকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আমাদের এখানে একজন সংসদ সদস্য আছেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদসহ আরও অনেকেই। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেবের নেতৃত্বে যখন শপথ গ্রহণ করেছিলেন, রাষ্ট্রপতিকে তখন তারা স্বীকৃতি দিয়েছিলেন মাননীয় স্পিকার।

জেএইচআর