সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সফরসূচিতে যা আছে

সিলেট প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সফরসূচিতে যা আছে
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ শনিবার সকাল ১০টায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী । ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের আকাশ আজ যেন এক নতুন আশার আলোয় উদ্ভাসিত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফর কেবল একটি দাপ্তরিক সফর নয়, বরং এটি সিলেটবাসীর জন্য উন্নয়ন, আধ্যাত্মিকতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সম্পৃক্ততার এক অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুরো সিলেট নগরী আজ উৎসবমুখর।

সিলেটকে বলা হয় ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের শুরুতেই গুরুত্ব দিয়েছেন এই আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি রওনা হন নগরের দরগাগেট এলাকায় অবস্থিত প্রখ্যাত সুফিসাধক ‘হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে।সেখানে তিনি জিয়ারত করেন এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন। সিলেটের মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের প্রাণকেন্দ্র এই মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর সফরের এক তাৎপর্যপূর্ণ অংশ।

বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ‘চাঁদনিঘাট এলাকায়‘একটি যুগান্তকারী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সুরমা নদীর ভাঙন রোধ এবং শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রী আজ ‘সুরমার দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ'প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলো হলো নদীর পাড় বাঁধাই করে ভাঙন রোধ করা, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদনিঘাট সংলগ্ন এলাকায় নাগরিকদের জন্য আধুনিক ওয়াকওয়ে ও পর্যটন উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি সিলেটের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর গন্তব্য সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়ন। সেখানে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাসিয়া খাল পুনঃখনন'কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

সিলেটের হাওর ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য এই খালটি লাইফলাইনের মতো। দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে এটি যেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করত, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটত। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সরাসরি কৃষকদের কল্যাণে আসবে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করবে। এটি কেবল একটি খাল খনন নয়, বরং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের দিকে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

বিশ্রামের পর বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হবেন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে। সেখানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে ও তাদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা হবে।

ক্রীড়াঙ্গনে এই নতুন উদ্যোগটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের অলিম্পিক বা আন্তর্জাতিক আসরের জন্য দক্ষ অ্যাথলেট তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী দলীয় এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এই সভায় সিলেটের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলবেন এবং সরকারের উন্নয়ন বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেবেন। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জনগণের সমস্যার কথা সরাসরি শোনার এই প্রক্রিয়াটি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দর্শনের একটি বিশেষ দিক।

দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো নগরী ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে সেজেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের হৃদস্পন্দন বোঝার চেষ্টা করছেন। সুরমা নদীর সৌন্দর্যবর্ধন থেকে শুরু করে বাসিয়া খাল খনন কিংবা শিশুদের জন্য ক্রীড়া কর্মসূচি- প্রতিটি পদক্ষপই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আজকের দিনটি সিলেটের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এসে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানের পথ দেখাচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর সিলেটের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আধ্যাত্মিকতা, উন্নয়ন এবং তারুণ্যের এই সংমিশ্রণই আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার মূলমন্ত্র হয়ে উঠছে।

এএন